লেখক: শিশুশিক্ষা ও প্যারেন্টিং গবেষক মুফতি আব্দুল্লাহ আল হাদী [এম.এ, ঢাবি] |
পরিচালক: তাকওয়া শিশু একাডেমি ও মাদরাসাতুল ঈমান, ঢাকা।
![]() |
| Mufti Abdullah Al Hadi |
প্রতি বছর রবিউল আউয়াল মাস এলে বাংলাদেশের রাজপথগুলোতে এক অনন্য দৃশ্য চোখে পড়ে। সবুজ পতাকায় সজ্জিত হাজারো মানুষ সুশৃঙ্খল সারিতে এগিয়ে চলেন,
কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয় নবীপ্রেমের স্তুতিগান ও দরুদ–সালাম। এই ধর্মীয় শোভাযাত্রাটি সাধারণ মানুষের কাছে ‘জশনে জুলুস’ নামে পরিচিত। বর্তমান বাংলাদেশে ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে এটি অত্যন্ত পরিচিত ও বৃহৎ আয়োজন হলেও প্রশ্ন জাগে—এই ভূখণ্ডে এই রীতির প্রচলন কীভাবে শুরু হলো?
কবে থেকে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে সমবেত কণ্ঠে এই আনন্দ মিছিলের সূচনা করলেন?
ইসলামের সুদীর্ঘ ইতিহাসে কোনো কোনো রীতি সময়ের আবর্তে নির্দিষ্ট অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রকাশ হিসেবে রূপ নেয়। বাংলাদেশে জশনে জুলুসের ইতিহাসও তেমনই একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়,
যার শিকড় প্রোথিত রয়েছে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে।
ঈদে মিলাদুন্নবী বলতে কী বোঝায়?
‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ কথাটির আক্ষরিক অর্থ হলো ‘নবীর জন্মোৎসব’ বা ‘নবীর আগমনের আনন্দ’। আরবি ‘ঈদ’ অর্থ আনন্দ বা উৎসব,
‘মিলাদ’ অর্থ জন্ম বা জন্মদিন এবং ‘নবী’ বলতে এখানে ইসলামের শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বোঝানো হয়েছে। ইসলামী বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস রবিউল আউয়ালের ১২ তারিখকে অধিকাংশ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যে মহানবীর জন্ম ও ওফাতের তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ঐতিহাসিকভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো:
- মহানবী (সা.)-এর পবিত্র জীবনের শিক্ষা, আদর্শ ও আত্মত্যাগ স্মরণ করা।
- তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করা।
- গরিব–দুঃখীদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও দান–সদকা করা।
- ইসলাম প্রচার ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা।
ইসলামী গবেষকদের মতে,
মহানবীর জীবদ্দশায় কিংবা সাহাবিদের যুগে বর্তমান কাঠামোর মতো নির্দিষ্ট দিনে উৎসব উদযাপনের প্রচলন ছিল না। পরবর্তীতে হিজরি ষষ্ঠ ও সপ্তম শতাব্দীর দিকে মিসরের ফাতেমীয় এবং মসুল ও ইরবিলের স্থানীয় মুসলিম শাসকদের আমলে মিলাদুন্নবী রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পরিসরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হতে শুরু করে। ভারতীয় উপমহাদেশে তা সুফি ও দরবার কেন্দ্রিক ধারায় আরও প্রসারিত হয়।
জশনে জুলুস কী?
‘জশনে জুলুস’ একটি ফারসি ও আরবি মিশ্রিত শব্দযুগল। ‘জশন’ ফারসি শব্দ,
যার অর্থ উৎসব,
আনন্দ বা আনন্দোৎসব। আর ‘জুলুস’ আরবি শব্দ,
যার সাধারণ অর্থ বসা হলেও উপমহাদেশীয় পরিভাষায় এটি ‘মিছিল’, ‘শোভাযাত্রা’ বা ‘শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং ‘জশনে জুলুস’ বলতে বোঝায় এমন একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা,
যা মহানবী (সা.)-এর শুভাগমনকে কেন্দ্র করে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আয়োজিত হয়।
জশনে জুলুসের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- এটি কোনো রাজনৈতিক বা প্রতিবাদী মিছিল নয়;
বরং সম্পূর্ণ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল একটি শোভাযাত্রা। - অংশগ্রহণকারীরা হাতে কালেমা খচিত ও সুন্নি ঐতিহ্যের নির্দেশক সবুজ–সাদা পতাকা,
প্ল্যাকার্ড এবং ব্যানার বহন করেন। - পদযাত্রার পুরো সময় উচ্চকণ্ঠে হামদ,
নাত, দরুদ শরিফ ও সালাতু সালাম পাঠ করা হয়। - সাধারণত শহরের একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে নির্ধারিত মাঠে বা দরবারে সমবেত হওয়ার পর দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে তা সমাপ্ত হয়।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট থাকা দরকার—‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ হলো মূল ধর্মীয় উপলক্ষ বা দিবস,
আর ‘জশনে জুলুস’ হলো সেই উপলক্ষকে প্রকাশ করার জন্য আয়োজিত একটি সুনির্দিষ্ট সামাজিক ও দৃশ্যমান মাধ্যম বা শোভাযাত্রা।
বাংলাদেশে জশনে জুলুসের সূচনার ইতিহাস
বাংলাদেশে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে কোরআনখানি,
মিলাদ মাহফিল ও জিকির–আজকারের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের হলেও রাজপথে বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা বা ‘জুলুস’–এর ধারণাটি অপেক্ষাকৃত আধুনিক। এই ভূখণ্ডে সুসংগঠিতভাবে প্রথম জশনে জুলুস শুরু হয় গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে।
১৯৭৪: বলুয়ারদিঘী খানকা থেকে প্রথম পদযাত্রা (নুর মোহাম্মদ আল কাদেরির নেতৃত্বে)
↓
১৯৭৬: সৈয়দ মোহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রহ.)-এর আগমন ও বিশালত্ব লাভ
↓
১৯৮৬+: চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ও পরবর্তীতে সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় বিস্তার
১৯৭৪ সালে চট্টগ্রামে প্রথম জুলুস
ঐতিহাসিক নথি ও আয়োজক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী,
বাংলাদেশে প্রথম জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয় ১৩৯৪ হিজরি তথা ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। তৎকালীন সময়ে চট্টগ্রামের আঞ্জুমান–এ–রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের উদ্যোগে এবং সুন্নি আলেমদের নির্দেশনায় এই নতুন ধারার শোভাযাত্রার সূচনা করা হয়।
প্রথম জুলুসটি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক বলুয়ারদিঘী খানকা–এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়েছিল। সে বছর অল্পসংখ্যক আলেম ও ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণে এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়, যা চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও ধর্মীয় উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল।
নুর মোহাম্মদ আল কাদেরির নেতৃত্ব
১৯৭৪ সালের সেই প্রথম জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়দ মোহাম্মদ নুর মোহাম্মদ আল কাদেরি (রহ.)। পাকিস্তানের পেশোয়ার থেকে আগত সিলসিলায়ে আলিয়া কাদেরিয়া সিরিকোট শরিফের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি তৎকালীন পূর্ব ও বর্তমান বাংলাদেশে কাদেরিয়া তরিকার প্রচার ও প্রসারে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই এই শোভাযাত্রার রূপরেখা তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষকে সুশৃঙ্খলভাবে এতে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সৈয়দ মোহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রহ.)-এর নেতৃত্বে জুলুস
১৯৭৪ সালে সূচনার পর ১৯৭৬ সালে এই আয়োজনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে। সিরিকোট শরিফের তৎকালীন সাজ্জাদানশীন এবং আঞ্জুমানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রহ.) বাংলাদেশ সফরে এসে এই শোভাযাত্রার নেতৃত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন।
১৯৭৬ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ এক দশক তিনি নিয়মিতভাবে চট্টগ্রামের জশনে জুলুসে সশরীরে নেতৃত্ব দেন। তাঁর উপস্থিতির কারণে চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও অন্যান্য জেলা থেকেও হাজার হাজার অনুসারী এই মিছিলে যোগ দিতে শুরু করেন। ফলে ক্ষুদ্র পরিসরের একটি পদযাত্রা অল্প কয়েক বছরের ব্যবধানে লাখো মানুষের মহা–সমাবেশে রূপ নেয়। পরবর্তীতে তাঁর নির্দেশনায় রাজধানী ঢাকাতেও আনজুমানের উদ্যোগে পৃথক জশনে জুলুসের প্রচলন শুরু হয়।
চট্টগ্রামের জুলুস কীভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠল?
১৯৭৬ সালের পর থেকে চট্টগ্রামের জশনে জুলুস কেবল একটি সাধারণ ধর্মীয় মিছিলের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি;
এটি পরিণত হয় চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সামাজিক–সাংস্কৃতিক উৎসবে। এর জনপ্রিয়তার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ ছিল:
(১) সাংগঠনিক কাঠামো: ‘আঞ্জুমান–এ–রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্কের কারণে এত বিশাল জনসমাগম অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হতো।
(২) ঐতিহ্যবাহী আবহ: সাদা পোশাক পরিহিত লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষের মুখে সম্মিলিত ‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা’ ধ্বনি এক গভীর ভাবাবেগের পরিবেশ তৈরি করত।
(৩) সামাজিক আপ্যায়ন ও ঐক্য: জুলুসের পুরো রুটে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণকারীদের জন্য শরবত, পানি ও মিষ্টি বিতরণের ব্যবস্থা করতেন, যা সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য ও সামাজিক ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠে।
আয়োজকদের দাবি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন সময়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী,
চট্টগ্রামের আলমগীর খানকা প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা ময়দানে এসে সমাপ্ত হওয়া এই জুলুসটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানব জমায়েত হিসেবে পরিগণিত হয়।
বাংলাদেশে জশনে জুলুসের বিস্তার
চট্টগ্রামে সূচিত এই রীতি সময়ের সাথে সাথে গোটা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। সত্তরের দশকের শেষভাগ থেকে আশির দশকে দেশের অন্যান্য দরবার,
পীর মাশায়েখ এবং ইসলামী সংগঠনগুলোও তাদের নিজস্ব এলাকায় জশনে জুলুসের আয়োজন শুরু করে।
- ঢাকা মহানগরী: বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ চত্বর, মোহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া মাদরাসা ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতি বছর ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে একাধিক বৃহৎ জুলুস বের হয়।
- বিভিন্ন দরবার ও তরিকা: ছারছীনা, মাইজভাণ্ডার, ফুলতলী,
আটরশীসহ বিভিন্ন সুফি সিলসিলা ও দরবারের অনুসারীরা তাদের নিজ নিজ অঞ্চল ও ভক্তদের নিয়ে মিলাদুন্নবীর শোভাযাত্রা আয়োজন করতে থাকেন। - জেলা ও উপজেলা পর্যায়: বর্তমানে সিলেট, খুলনা,
রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহসহ প্রায় প্রতিটি জেলা ও উপজেলা সদরে স্থানীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন,
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এবং বিভিন্ন মাদরাসার উদ্যোগে জশনে জুলুস উদযাপিত হয়।
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সামাজিক বা বেসরকারি বিশ্লেষণে এই জুলুসগুলোতে ব্যাপক জনসমাগমের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে সামগ্রিকভাবে পুরো দেশে ঠিক কত মানুষ এতে অংশ নেন,
তার নির্ভরযোগ্য কোনো একক সরকারি পরিসংখ্যান নেই;
কিন্তু এটি স্পষ্ট যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বহুলক্ষাধিক।
ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়ে মতপার্থক্য ও বিতর্ক
মুসলিম সমাজে ঈদে মিলাদুন্নবী এবং বিশেষত জশনে জুলুস পালন নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে শাস্ত্রীয় মতপার্থক্য বিদ্যমান। উভয় পক্ষের আলেম ও গবেষকগণ কোরআন,
হাদিস ও ফিকহের আলোকে নিজস্ব যুক্তি তুলে ধরেন:
|
দৃষ্টিভঙ্গি |
মূল ভিত্তি ও যুক্তি |
প্রধান বক্তব্য |
|
সমর্থক ও তথাকথিত আলেমদের মত (প্রধানত সুফি ও বেরলভি ধারা) |
• সুরা ইউনুস (আয়াত ৫৮): আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতের প্রতি আনন্দ প্রকাশ করার নির্দেশ। • নবীজি (সা.) হলেন সমগ্র জগতের জন্য রহমত (রাহমাতুল্লিল আলামিন)। • এটি ‘বিদয়াতে হাসানা’ বা উত্তম উদ্ভাবন। |
মহানবীর আগমন মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার। তাই শরিয়তসম্মত পন্থায় শোভাযাত্রা, |
|
মূলধারার আলেমদের মত (প্রধানত সালাফি ও দেওবন্দি ধারা) |
• ইসলামের মূল উৎস কোরআন ও সুন্নাহর কঠোর অনুসরণ। • সাহাবি, তাবেয়ি ও চার ইমামের যুগে এই নির্দিষ্ট দিবসভিত্তিক রীতির অনুপস্থিতি। • ধর্মীয় বিষয়ে নতুন সংযোজন বা ‘বিদয়াত’ থেকে সতর্কতার হাদিস। |
নবীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের একমাত্র উপায় হলো তাঁর সুন্নাহর পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করা। নির্দিষ্ট দিনে শোভাযাত্রা বা জন্মোৎসব পালন করা প্রাথমিক যুগের ইসলামে ছিল না, তাই এটি বর্জনীয়। |
বিজ্ঞ আলেমদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের
অভিমত অনুযায়ী, প্রচলিত এসব পন্থায় নবীপ্রেমের প্রকাশ
কুরআন-সুন্নাহর মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রকৃতপক্ষে রাসুল ﷺ-এর প্রতি
অকৃত্রিম ভালোবাসার সর্বোত্তম বহিঃপ্রকাশ হলো তাঁর জীবনাদর্শ ও পবিত্র সুন্নাতকে
অক্ষরে অক্ষরে নিজের জীবনে ধারণ করা।
উপসংহার
বাংলাদেশে জশনে জুলুসে ঈদে
মিলাদুন্নবী গত পাঁচ দশকে একটি পরিচিত রেওয়াজে রূপ নিলেও, ইসলামের মৌলিক বিধান ও শাস্ত্রীয় মানদণ্ডে এর অবস্থান নিয়ে রয়েছে গভীর
পর্যালোচনা। বিজ্ঞ আলেমদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের অভিমত অনুযায়ী—দিবসভিত্তিক
শোভাযাত্রা কিংবা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি
ভালোবাসা প্রকাশের এই প্রচলিত পন্থা কুরআন ও সুন্নাহর মূল চেতনার সাথে
সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে সালেহিনের
সোনালী যুগ পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট দেখা যায় যে, নবীপ্রেম কোনো
সাময়িক আবেগ বা আনুষ্ঠানিক উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রকৃতপক্ষে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর প্রতি
অকৃত্রিম ভালোবাসার সর্বোত্তম ও বাস্তব বহিঃপ্রকাশ হলো—তাঁর সুমহান চরিত্র, জীবনাদর্শ এবং পবিত্র সুন্নাতকে অক্ষরে অক্ষরে নিজের সামগ্রিক জীবনে ধারণ
করা ও তার ওপর অবিচল থাকা। তাই বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর রেখে যাওয়া
সুন্নাহর পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেই উম্মাহর প্রকৃত কল্যাণ ও
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব।

