শিশুর ভর্তি প্রস্তুতি সিরিজ: প্রথম পর্ব- শিক্ষা জীবনের পরিকল্পনা

লেখক: শিশুশিক্ষা ও প্যারেন্টিং গবেষক মুফতি আব্দুল্লাহ আল হাদী [এম.এ, ঢাবি]

পরিচালক: তাকওয়া শিশু একাডেমি ও মাদরাসাতুল ঈমান, ঢাকা।

mufti abdullah hadi
mufti abdullah al hadi

ভূমিকা

বিকেলবেলা ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে চা খাচ্ছিলেন রাহাত সাহেব। পাশেই তাঁর আট বছরের ছেলে আরিয়ান খাতায় রঙ পেন্সিল নিয়ে আঁকিবুঁকি কাটছিল। রাহাত সাহেবের ফোনে স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ এক বন্ধুর ছেলের ডাক্তার হওয়ার সাফল্যের খবর চোখে পড়ল। অমনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি আরিয়ানকে ডেকে বললেন, “দেখিস, তোকে বড় হয়ে বুয়েট বা মেডিকেলে পড়তে হবে,
ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে। নইলে সমাজে কোনো দাম নেই!”

আরিয়ান মায়ের দিকে তাকাল, যার মুখেও একই রকম উচ্চাশার ছাপ। অবুঝ শিশুটি তখনো বুঝতে পারেনি, তার বয়স সবেমাত্র আট বছরঅথচ তার জন্মের বহু আগেই বাবামা তার জীবনের একটি নিখুঁত চিত্রনাট্য লিখে ফেলেছেন। সে ডাইনোসর আঁকতে ভালোবাসে, কাগজ কেটে নৌকা বানাতে পছন্দ করে; কিন্তু তার এই সহজাত কৌতূহল সৃজনশীলতা বাবামায়ের নির্ধারিত ইঁদুরদৌড়ের কাছে সম্পূর্ণ গুরুত্বহীন।

এমন দৃশ্য আমাদের সমাজের প্রায় প্রতিটি ঘরেই প্রতিদিন দেখা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি আসলেই সন্তানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছি, নাকি নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন অন্যের কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে তার সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করছি? এই ব্লগে আমরা তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করব।

Get more information: পড়ালেখা ও শিক্ষা এক জিনিস নয়

কেন আমরা সন্তানের ভবিষ্যৎ খুব তাড়াতাড়ি ঠিক করে ফেলি?

সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই বাবামায়ের মনে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা ছক তৈরি হতে শুরু করে। এর পেছনে মূলত বেশ কিছু সামাজিক মানসিক কারণ কাজ করে থাকে:

  • সামাজিক চাপ: আমাদের সমাজে একটি অদৃশ্য প্রতিযোগিতা কাজ করে। কে কী বলবে,
    সমাজ কীভাবে দেখবেএই ভয়ে বাবামা শৈশব থেকেই সন্তানকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে বন্দি করতে চান।
  • আত্মীয়স্বজনের প্রত্যাশা: পরিবারের দাদাদাদী,
    নানানানী বা অন্য আত্মীয়দের অবচেতন মন বা সরাসরি চাওয়ার চাপ প্রায়শই শিশুর ওপর এসে পড়ে। আমাদের বংশে সবাই ডাক্তার,
    তোকেও তাই হতে হবে’—এমন মানসিকতা এখনও সমাজে বিদ্যমান।
  • নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন: অনেক বাবামা তাদের শৈশবের অধরা স্বপ্ন বা অমীমাংসিত ইচ্ছেগুলো সন্তানের মাধ্যমে পূরণ করতে চান। নিজে শিল্পী হতে না পেরে সন্তানকে জোর করে আর্ট স্কুলে দেওয়া বা নিজে ডাক্তার হতে না পেরে সন্তানকে জোর করে বিজ্ঞান বিভাগে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা খুব সাধারণ।
  • অন্যের সন্তানকে দেখে তুলনা: প্রতিবেশীর ছেলে জিপিএ পাওয়ায় বা কোনো প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ায় নিজের সন্তানকেও ঠিক তেমনি পারফর্ম করতে হবেএমন অসুস্থ তুলনা অনেক শিশুর স্বাভাবিক বিকাশকে থমকে দেয়।

এতে কী কী ক্ষতি হতে পারে?

চাইল্ড সাইকোলজি বা শিশু মনস্তত্ত্বের গবেষকদের মতে, ছোটবেলা থেকে সন্তানের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশা নির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ চাপিয়ে দেওয়ার নেতিবাচক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। এর ফলে শিশুর জীবনে যেসব ক্ষতি হতে পারে:

Get more information: শুধু বই পড়ালেই হবে না! শিক্ষার্থীর মাথায় বিষয় ঢুকিয়ে দিন

মানসিক চাপ উৎকণ্ঠা: ছোট বয়সেই অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ এবং লক্ষ্য অর্জনের তাগিদে শিশুরা ক্রনিক স্ট্রেস বা দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপে ভোগে। আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স (AAP)-এর গবেষণা অনুযায়ী,
অতিরিক্ত চাপ শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগের জন্ম দেয়।

  • আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া: যখন একটি শিশু বাবামায়ের নির্ধারিত লক্ষ্য বা প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়,
    তখন সে নিজেকে অযোগ্য ভাবতে শুরু করে। এর ফলে তার আত্মবিশ্বাস তলানিতে গিয়ে ঠেকে।
  • পড়াশোনার প্রতি অনীহা: জোর করে কোনো কিছু শেখানোর ফলে পড়াশোনা বা স্কুল তার কাছে আনন্দের বদলে একটি শাস্তি বা ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
  • সৃজনশীলতা নষ্ট হওয়া: মানুষের ভেতরের সৃজনশীলতা স্বাধীন পরিবেশে বিকশিত হয়। কিন্তু ছকে বাঁধা জীবন শিশুদের মৌলিক চিন্তা উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়।
  • সম্পর্কের দূরত্ব: বাবামায়ের এই অতি নিয়ন্ত্রণের কারণে সন্তানের সাথে তাদের মানসিক দূরত্বের সৃষ্টি হয়। শিশু বাবামাকে বন্ধু হিসেবে দেখতে পায় না,
    বরং একজন কড়া নির্দেশক হিসেবে ভয় পায়।
  • হতাশা डिপ্রেশন: দীর্ঘদিন ধরে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চলতে চলতে কৈশোরে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই অনেক শিশু তীব্র হতাশা বা বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়।

প্রতিটি শিশুই আলাদা

mufti abdullah al hadi
Mufti Abdullah Al Hadi awards a child

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের গবেষণা এবং বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী হাওয়ার্ড গার্ডনারের মাল্টিপল ইন্টেলিজেন্স (Multiple
Intelligence)
তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রতিটি শিশুই ইউনিক বা অনন্য। সব শিশুর মেধা এক ছাঁচে গড়া নয়। নিচে শিশুর বৈচিত্র্যময় দিকগুলো আলোচনা করা হলো:

  • মাল্টিপল ইন্টেলিজেন্স: বুদ্ধি কেবল বইয়ের পড়া বা অঙ্কে ভালো করার নাম নয়। কারও বুদ্ধিমত্তা থাকে ভাষাগত (Linguistic),
    কারও যৌক্তিকগাণিতিক (Logical-Mathematical), কারও বা স্থানিক (Spatial),
    সংগীত বিষয়ক (Musical) কিংবা শারীরিকসঞ্চালনমূলক (Bodily-Kinesthetic)
  • লার্নিং স্টাইল (Learning
    Style):
    কেউ শুনে শেখে (Auditory), কেউ দেখে শেখে (Visual),
    আবার কেউ হাতেকলমে কাজ করে শেখে (Kinesthetic) সবার শেখার গতি ধরন আলাদা।
  • ন্যাচারাল ট্যালেন্ট (Natural
    Talent):
    জন্মগতভাবেই প্রতিটি শিশুর মধ্যে বিশেষ কিছু প্রতিভা থাকে। কেউ খেলায় ভালো,
    কেউ ছবি আঁকায়, কেউ আবার অসাধারণ কথা বলতে পারে বা নেতৃত্ব দিতে জানে।
  • পার্সোনালিটি ডিফারেন্স (Personality
    Difference):
    কোনো শিশু অত্যন্ত মিশুক (Extrovert), আবার কেউ কিছুটা অন্তর্মুখী (Introvert) জোর করে অন্তর্মুখী শিশুকে অতিরিক্ত সামাজিক হতে বাধ্য করলে তার মানসিক ক্ষতি হয়।

শিশুর আগ্রহ কীভাবে বুঝবেন?

শিশুর ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে বরং তার স্বভাব পর্যবেক্ষণ করে তার প্রকৃত আগ্রহ বুঝে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। বাস্তব কিছু উপায়ে আপনি বুঝতে পারেন আপনার সন্তান ঠিক কিসে আনন্দ পায়:

  • কী নিয়ে খেলতে ভালোবাসে: খেলার ছলেই শিশুরা তাদের মনের কথা প্রকাশ করে। সে কি ব্লক দিয়ে ঘর বানায়, না কি খেলনা গাড়ি ঠিক করতে পছন্দ করে,
    তা লক্ষ করুন।
  • কোন বিষয়ে বেশি প্রশ্ন করে: যে শিশুটি প্রকৃতি বা মহাকাশ নিয়ে হাজারটা প্রশ্ন করে, তার কৌতূহলের ক্ষেত্রটি বিজ্ঞান বা প্রকৃতির দিকে।
  • কোন কাজে সময় ভুলে যায়: ছবি আঁকা, গান শোনা, বা মাটি নিয়ে খেলাযে কাজটি করার সময় শিশু ঘড়ির কাটা দেখতে ভুলে যায়, সেটাই তার প্যাশন হতে পারে।
  • কী শিখতে আগ্রহী: জোর না করে নতুন কোনো স্কিল বা খেলা শেখানোর চেষ্টা করলে সে নিজে থেকেই কতটা উৎসাহ দেখাচ্ছে, তা খেয়াল করুন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি দেওয়ার আগে কোন বিষয়গুলো ভাববেন?

শিশুকে একটি নতুন স্কুল বা মাদরাসায় ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের সময় কেবল এর জাঁকজমক বা পাসের হার না দেখে নিচের বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত:

  • শিশুর বয়স: শিশুর বয়স পরিপক্বতা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
  • মানসিক প্রস্তুতি: শিশু নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত কি না।
  • পারিবারিক পরিবেশ: স্কুলের বা মাদরাসার পরিবেশ কি ঘরের মতো উষ্ণ নিরাপদ,
    নাকি অতিরিক্ত কড়াকড়ি?
  • ধর্মীয় পরিবেশ: শিশুর মাঝে নৈতিকতা ধর্মীয় মূল্যবোধ অর্জনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ আছে কি না।
  • দূরত্ব: যাতায়াত যেন শিশুর ওপর ধকল বা ক্লান্তি সৃষ্টি না করে,
    সেদিকে খেয়াল রাখা।
  • শিক্ষকের মান: শিক্ষকরা শিশুদের সাথে কেমন আচরণ করেন,
    তারা কি সহানুভূতিশীল?
  • মূল্যবোধ: প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য কেবল রেজাল্ট ভালো করা,
    না কি ভালো মানুষ তৈরি করা।
  • সহশিক্ষা কার্যক্রম: খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা বা দ্বীনি মাহফিল বা সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ আছে কি না।

কেন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন?

অনেক সময় অভিভাবকরা একা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। সেক্ষেত্রে পেশাদারদের সাহায্য নেওয়া অত্যন্ত উপকারী:

  • Child
    Psychologist:
    শিশুর আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে বা তার বুদ্ধিমত্তা মেধার সঠিক মূল্যায়ন করতে শিশু মনোবিজ্ঞানীর সাহায্য নেওয়া যায়।
  • Education
    Expert:
    শিক্ষাবিদরা বর্তমান যুগের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিশুর জন্য কোন ধরনের কারিকুলাম বা প্রতিষ্ঠান উপযুক্ত হবে,
    তা সুন্দরভাবে বাতলে দিতে পারেন।
  • Experienced
    Teacher:
    অভিজ্ঞ শিক্ষকগণ একজন শিশুর শেখার গতি এবং তার মানসিক অবস্থা খুব সহজেই বুঝতে পারেন এবং সঠিক গাইডলাইন দিতে পারেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তানের লালনপালন

ইসলাম ধর্মে সন্তানকে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অত্যন্ত মূল্যবান আমানত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কুরআন সহিহ হাদিসের আলোকে সন্তানের লালনপালন শিক্ষার ক্ষেত্রে চমৎকার দিকনির্দেশনা রয়েছে।

  • সন্তান আল্লাহর আমানত: পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

তোমাদের সম্পদ সন্তানসন্ততি কেবল একটি পরীক্ষা…” (সূরা আলআনফাল, আয়াত ২৮)

তাই সন্তানকে নিজের অহংকার বা প্রমাণের বস্তু না ভেবে আল্লাহর দেওয়া আমানত হিসেবে লালন করতে হবে।

  • তার ফিতরাতকে সম্মান করা: ইসলামে প্রতিটি শিশুকে স্বভাবধর্ম বা ফিতরাত‘-এর ওপর জন্ম নেওয়া হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
    প্রত্যেক শিশুই ফিতরাতের ওপর জন্ম নেয়…”
    (
    সহিহ বুখারি মুসলিম) অর্থাৎ, শিশুর নিজস্ব স্বভাব স্বাভাবিক সত্তাকে সম্মান করা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা।
  • উত্তম চরিত্র গঠন: জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সন্তানকে একজন সৎ,
    আমানতদার দয়ালু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতি বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
  • দ্বীনি দুনিয়াবি শিক্ষার ভারসাম্য: ইসলাম কখনোই আধুনিক বা বৈজ্ঞানিক শিক্ষাকে অস্বীকার করে না। বরং দ্বীনি জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জাগতিক শিক্ষায় পারদর্শী করে তোলাও প্রত্যেক অভিভাবকের নৈতিক দায়িত্ব।

অভিভাবকদের জন্য ১০টি বাস্তব পরামর্শ

mufti abdullah al hadi
lecture of abdullah al hadi

সন্তানের সঠিক মানসিক বিকাশ সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য নিচে ১০টি কার্যকরী পরামর্শ দেওয়া হলো:

(১) তুলনা করা বন্ধ করুন: কখনোই আপনার সন্তানের সাথে অন্য কোনো শিশুর তুলনা 
করবেন না। প্রতিটি শিশু তার নিজস্ব গতিতে বিকশিত হয়।
(২) সক্রিয় শ্রোতা হোন: সন্তান যখন কিছু বলতে আসে, মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তার ছোটখাটো        মতামতকেও গুরুত্ব দিন।
(৩) খেলার সুযোগ দিন: খেলাধুলা শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ এবং শারীরিক গঠনের জন্য অপরিহার্য। তাকে সারাদিন পড়াশোনার চাপে বন্দি রাখবেন না।
(৪) ভুল করতে দিন: ভুল করা মানেই ব্যর্থতা নয়। ভুল থেকেই শিশুরা শেখে। ভুল করলে বকাঝকা না করে বুঝিয়ে বলুন।
(৫) প্রশংসা করুন: সন্তানের ছোট বা বড় যেকোনো ভালো কাজের জন্য আন্তরিকভাবে প্রশংসা করুন। এতে তার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়।
(৬) পড়াশোনাকে আনন্দের মাধ্যম করুন: পড়াশোনাকে ভয়ের বিষয় না বানিয়ে বরং গল্পে খেলায় আনন্দের মাধ্যমে শেখানোর পরিবেশ তৈরি করুন।
(৭) নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করুন: নিজের রাগ, হতাশা বা অপূর্ণতার ক্ষোভ সন্তানের ওপর ঝাড়বেন না।
(৮) সময় দিন: ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানের সাথে মানসম্মত সময় (Quality
Time) কাটান। তার অনুভূতিগুলো বোঝার চেষ্টা করুন।
(৯) ডিজিটাল স্ক্রিন টাইম সীমিত করুন: মোবাইল বা ট্যাবের অতিরিক্ত আসক্তি শিশুর মনোযোগ কল্পনাশক্তি নষ্ট করে। তাই স্ক্রিন টাইম নির্দিষ্ট করে দিন।
(১০) তার ইচ্ছাকে সম্মান করুন: বড় সিদ্ধান্তগুলোতে (যেমন: বিষয় নির্বাচন বা শখের ক্ষেত্র) তার নিজস্ব মতামতকে প্রাধান্য দিন।

উপসংহার

একটি শিশুর শৈশব হলো একটি সুন্দর ফুলের কুঁড়ির মতো। জোর করে সেই কুঁড়িকে আগেই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করলে তার সুবাস নষ্ট হয়ে যায়; বরং সঠিক রোদ, পানি ভালোবাসা পেলে সেটি তার নিজস্ব সময়ে প্রস্ফুটিত হয়ে চারপাশ মোহিত করবে। আপনার সন্তান ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হোক কিংবা একজন সফল শিল্পী, উদ্যোক্তা বা ভালো মনের মানুষতার জন্মগত সম্ভাবনাকে উপলব্ধি করে তাকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই হোক আপনার মূল ব্রত।

আসুন, সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের সংকীর্ণ প্রত্যাশাগুলো বাদ দিয়ে তাকে নিজের মতো করে উড়ে বেড়ার সুযোগ করে দিই।

FAQ (সাধারণ জিজ্ঞাসা)

. ছোটবেলায় সন্তানের আগ্রহ কীভাবে বুঝব?

উত্তর: শিশু কোন ধরনের খেলা পছন্দ করে, কিসের প্রতি বেশি কৌতূহল দেখায় এবং কোন কাজ করতে সে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায়তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলেই তার আগ্রহ বোঝা সম্ভব।

. সন্তানের ওপর নিজের স্বপ্ন চাপিয়ে দিলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

উত্তর: এর ফলে শিশুর মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ, আত্মবিশ্বাসের অভাব, পড়াশোনার প্রতি অনীহা এবং পরবর্তীতে চরম হতাশা বা ডিপ্রেশন তৈরি হতে পারে।

. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করার উপযুক্ত বয়স কোনটি?

উত্তর: প্রতিষ্ঠানের ধরন শিশুর মানসিক পরিপক্বতার ওপর ভিত্তি করে বয়স ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণত প্রিস্কুলের ক্ষেত্রে থেকে বছর বয়সকে উপযুক্ত ধরা হয়, যদি শিশু মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে।

. ইসলামে সন্তানের শিক্ষার ক্ষেত্রে কী বলা হয়েছে?

উত্তর: ইসলামে দ্বীনি নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি দুনিয়াবি বা জাগতিক শিক্ষা অর্জন এবং সন্তানের নিজস্ব স্বভাব মেধার বিকাশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

. আমার সন্তান যদি পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকে,
তবে কী করব?

উত্তর: তাকে বকাঝকা না করে তার শেখার ধরণ বা সমস্যাটি চিহ্নিত করুন। প্রয়োজনে কোনো চাইল্ড সাইকোলজিস্ট বা অভিজ্ঞ শিক্ষকের পরামর্শ নিন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top